চিনে সার্স মহামারীর চেয়েও ভয়ানক চেহারা নিচ্ছে অ্যাকিউট নিউমোনিয়া(Acute pneumonia)। এখনও পর্যন্ত নোভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৪২৬ জনের। আক্রান্ত প্রায় ১৭ হাজার। তাঁদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অন্তত ২৩০০ জন। অন্য ২৩টি দেশে আক্রান্ত অন্তত ১৫১। তার মধ্যে ফিলিপিন্সে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নোভেল করোনার ভয়ানক কামড়। চিনে মহামারী। মৃত্যুমিছিল চলছেই। ২০০২ ও ২০০৩ সালে মেনল্যান্ড চিনে ছড়িয়েছিল সার্স অর্থাত্ সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম। মারা গিয়েছিল ৩৪৯ জন। চিনের স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্ট বলছে, মৃত্যুর হারে সার্সকেও ছাড়িয়ে গেল নোভেল করোনাভাইরাস। আতঙ্ক বাড়ছে। আশঙ্কা ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে।
নোভেল করোনাভাইরাসের উত্সস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহরে কার্যত শ্মশানের নিস্তব্ধতা। শনিবার মারা যান ৪৫ জন মানুষ। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান ৪৯ জন। রবিবার ৮০ জন বাড়ি ফিরে গেলেও অ্যাকিউট নিউমোনিয়ায় মারা যান ৫৬ জন। গোটা শহর অবরুদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। চিনের আরও ২০টি শহরে লকডাউন। পৃথিবীর একাধিক দেশ সিঁটিয়ে রয়েছে সংক্রমণের ভয়ে। গ্লোবাল হেলথ এমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হুবেই সহ চিনের অন্য প্রদেশেও টাটকা শাকসবজি এবং চিকিত্সা সংক্রান্ত সরঞ্জাম দ্রুত জোগানের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। শ্যানডং, জিয়াংশু, আনহুই, হুনান, গুয়াংজি এবং অন্য সবজি উত্পাদনকারী অঞ্চলের সঙ্গে নিয়মতি যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাতে হুবেই প্রদেশে টাটকা সবজির জোগানে ঘাটতি না হয়।
উহানে আটকে থাকা রাশিয়ানদের দেশে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করে রাশিয়া সরকার। জানান প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুসতিন। চিনের বাইরে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থাইল্যান্ডে। রাজাভীতি হাসপাতালে ভর্তি করোনা ভাইরাস আক্রান্ততদের সঙ্গে দেখা করেন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিনা নাগরিকদের দেশের বাইরে বেরোতে বারণ করেছে বেজিং। মার খাচ্ছে বিভিন্ন দেশের পর্যটন। নতুন চান্দ্র বছরে ছুটির মরশুমে জাপানের পর্যটন ব্যবসা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।